Dhaka , Sunday, 11 January 2026
শিরোনাম
fa fa-square রাজশাহীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ খাবার হোটেল ব্যবসায়ীকে জরিমানা-বরেন্দ্র নিউজ fa fa-square ঝুনাগাছচাপানীতে ব্রাইট ফিউচার মডেল স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত-বরেন্দ্র নিউজ fa fa-square কুড়িগ্রামে অসহায়দের ঘরে ঘরে কম্বল পৌঁছে দিল এসএসসি-২০০৩ ব্যাচ-বরেন্দ্র নিউজ fa fa-square কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে  শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন বিজিবি-বরেন্দ্র নিউজ fa fa-square কুড়িগ্রামের যাত্রাপুরের  চরে ২ শতাধিক মানুষের পাশে চর উন্নয়ন কমিটি-বরেন্দ্র নিউজ fa fa-square কুড়িগ্রামে দুইদিনব্যাপী হ্যালো’র শিশু সাংবাদিকতা কর্মশালা শুরু-বরেন্দ্র নিউজ fa fa-square কুড়িগ্রামে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর আগেই ডিভাইসসহ ১১জন আটক-বরেন্দ্র নিউজ fa fa-square ভোলাহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত-বরেন্দ্র নিউজ fa fa-square চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিবগঞ্জ সীমান্তে ২টি বিদেশী ওয়ান শুটার গান ও ৯ উদ্ধার-বরেন্দ্র নিউজ fa fa-square চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকসহ এক নারীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৫-বরেন্দ্র নিউজ
শিরোনাম
রাজশাহীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ খাবার হোটেল ব্যবসায়ীকে জরিমানা-বরেন্দ্র নিউজ ঝুনাগাছচাপানীতে ব্রাইট ফিউচার মডেল স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত-বরেন্দ্র নিউজ কুড়িগ্রামে অসহায়দের ঘরে ঘরে কম্বল পৌঁছে দিল এসএসসি-২০০৩ ব্যাচ-বরেন্দ্র নিউজ কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে  শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন বিজিবি-বরেন্দ্র নিউজ কুড়িগ্রামের যাত্রাপুরের  চরে ২ শতাধিক মানুষের পাশে চর উন্নয়ন কমিটি-বরেন্দ্র নিউজ কুড়িগ্রামে দুইদিনব্যাপী হ্যালো’র শিশু সাংবাদিকতা কর্মশালা শুরু-বরেন্দ্র নিউজ কুড়িগ্রামে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর আগেই ডিভাইসসহ ১১জন আটক-বরেন্দ্র নিউজ ভোলাহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত-বরেন্দ্র নিউজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিবগঞ্জ সীমান্তে ২টি বিদেশী ওয়ান শুটার গান ও ৯ উদ্ধার-বরেন্দ্র নিউজ চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকসহ এক নারীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৫-বরেন্দ্র নিউজ

কয়েক দফা বন্যার পরেও ডিমলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে অম্লান হাসি-বরেন্দ্র নিউজ

  • Reporter Name
  • Update Time : 09:07:55 am, Saturday, 15 November 2025
  • 330 Time View

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
তিস্তানদীর ভাঙন ও কয়েক দফা বন্যার ধকল কাটিয়ে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় এবার আমন ধানে বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠজুড়ে এখন সোনালি ধানের দোলা- বাতাসে দুলছে পাকা ধান, ছড়িয়ে পড়ছে নতুন ধানের সুমিষ্ট গন্ধ। দীর্ঘদিনের কষ্ট ভুলে কৃষকের মুখে ফুটেছে অম্লান হাসি; কর্মচাঞ্চল্যে মুখর পুরো জনপদ।

চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং রোগবালাই প্রায় না থাকায় উৎপাদন হয়েছে আশাতীত। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে ধান কাটার ধুম। কেউ কাটছেন, কেউ আঁটি বাঁধছেন, কেউ আবার ঘরে নতুন ধান তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষকেরা জানান, মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না থাকায় অতিরিক্ত সেচ দিতে হয়েছে- ফলে উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়ে যায়। পাশাপাশি কয়েক দফা বন্যায় অনেক জমির ফসল নষ্ট হলেও পরবর্তীতে পুনরায় রোপণ করে তাঁরা কাঙ্ক্ষিত ফলন পেয়েছেন। ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে ধানের দাম সন্তোষজনক থাকায় মুখে এখন স্বস্তির হাসি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ডিমলায় ২১ হাজার ২১৭ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে- যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ হেক্টর বেশি। বিশেষ করে পশ্চিম ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই, খগাখরিবাড়ি, টেপাখরিবাড়ি, গয়াবাড়ি, খালিশা চাপানি ও ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী এলাকার কৃষকেরা বন্যার ধকল পেরিয়ে এবার পেয়েছেন স্বপ্নের ফলন।

বালাপাড়া ইউনিয়নের সুন্দরখাতা গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, “তিন বিঘা জমিতে ব্রি-৩৭ করেছি। শুরুতে খরচ বেশি ছিল, কিন্তু ফলন ও দাম দুটোই ভালো। এখন মনে হচ্ছে পরিশ্রম সার্থক।”

একই গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, “আগে অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি ধান কাটা হতো। এখন আগাম ও হাইব্রিড জাত ব্যবহারে কম সময়ে ভালো ফলন মিলছে। এতে একই জমিতে পরের ফসলও লাগানো যাচ্ছে, আয়ও বাড়ছে।”

গয়াবাড়ি ইউনিয়নের শুটিবাড়ি বাজারের ধান ব্যবসায়ী আবু তাহের বলেন, “বর্তমানে নতুন ধান প্রতি মণ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর একই ধান ছিল ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা।”

ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না বলেন, “তিস্তানদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যার ক্ষতি সত্ত্বেও এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। আগাম ও স্বল্পমেয়াদী জাতের চাষে উৎপাদন বেড়েছে। একই জমিতে এখন সরিষা বা আলু চাষের সুযোগ তৈরি হচ্ছে- যা কৃষিতে বৈচিত্র্য আনবে।”

তিনি আরও বলেন, “কৃষকদের সার, বীজ, কীটনাশক ও পরামর্শসহ সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ মৌসুমের সফলতা পুরোপুরি কৃষকদের পরিশ্রম ও সচেতনতার ফল।”

তিস্তাপাড়ের কৃষকেরা বলছেন, প্রতিবছরের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার ক্ষতি থাকলেও যদি এমন ফলন বজায় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে ডিমলায় কৃষির নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর এ সোনালি প্রাপ্তি শুধু ফসলের নয়- ডিমলার কৃষি অর্থনীতিতেও যোগ করেছে নতুন আশার আলো।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রাজশাহীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ খাবার হোটেল ব্যবসায়ীকে জরিমানা-বরেন্দ্র নিউজ

কয়েক দফা বন্যার পরেও ডিমলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন: কৃষকের মুখে অম্লান হাসি-বরেন্দ্র নিউজ

Update Time : 09:07:55 am, Saturday, 15 November 2025

ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
তিস্তানদীর ভাঙন ও কয়েক দফা বন্যার ধকল কাটিয়ে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় এবার আমন ধানে বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠজুড়ে এখন সোনালি ধানের দোলা- বাতাসে দুলছে পাকা ধান, ছড়িয়ে পড়ছে নতুন ধানের সুমিষ্ট গন্ধ। দীর্ঘদিনের কষ্ট ভুলে কৃষকের মুখে ফুটেছে অম্লান হাসি; কর্মচাঞ্চল্যে মুখর পুরো জনপদ।

চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং রোগবালাই প্রায় না থাকায় উৎপাদন হয়েছে আশাতীত। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে ধান কাটার ধুম। কেউ কাটছেন, কেউ আঁটি বাঁধছেন, কেউ আবার ঘরে নতুন ধান তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষকেরা জানান, মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না থাকায় অতিরিক্ত সেচ দিতে হয়েছে- ফলে উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়ে যায়। পাশাপাশি কয়েক দফা বন্যায় অনেক জমির ফসল নষ্ট হলেও পরবর্তীতে পুনরায় রোপণ করে তাঁরা কাঙ্ক্ষিত ফলন পেয়েছেন। ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে ধানের দাম সন্তোষজনক থাকায় মুখে এখন স্বস্তির হাসি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ডিমলায় ২১ হাজার ২১৭ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে- যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ হেক্টর বেশি। বিশেষ করে পশ্চিম ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই, খগাখরিবাড়ি, টেপাখরিবাড়ি, গয়াবাড়ি, খালিশা চাপানি ও ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী এলাকার কৃষকেরা বন্যার ধকল পেরিয়ে এবার পেয়েছেন স্বপ্নের ফলন।

বালাপাড়া ইউনিয়নের সুন্দরখাতা গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, “তিন বিঘা জমিতে ব্রি-৩৭ করেছি। শুরুতে খরচ বেশি ছিল, কিন্তু ফলন ও দাম দুটোই ভালো। এখন মনে হচ্ছে পরিশ্রম সার্থক।”

একই গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, “আগে অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি ধান কাটা হতো। এখন আগাম ও হাইব্রিড জাত ব্যবহারে কম সময়ে ভালো ফলন মিলছে। এতে একই জমিতে পরের ফসলও লাগানো যাচ্ছে, আয়ও বাড়ছে।”

গয়াবাড়ি ইউনিয়নের শুটিবাড়ি বাজারের ধান ব্যবসায়ী আবু তাহের বলেন, “বর্তমানে নতুন ধান প্রতি মণ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর একই ধান ছিল ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা।”

ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না বলেন, “তিস্তানদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যার ক্ষতি সত্ত্বেও এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। আগাম ও স্বল্পমেয়াদী জাতের চাষে উৎপাদন বেড়েছে। একই জমিতে এখন সরিষা বা আলু চাষের সুযোগ তৈরি হচ্ছে- যা কৃষিতে বৈচিত্র্য আনবে।”

তিনি আরও বলেন, “কৃষকদের সার, বীজ, কীটনাশক ও পরামর্শসহ সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ মৌসুমের সফলতা পুরোপুরি কৃষকদের পরিশ্রম ও সচেতনতার ফল।”

তিস্তাপাড়ের কৃষকেরা বলছেন, প্রতিবছরের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার ক্ষতি থাকলেও যদি এমন ফলন বজায় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে ডিমলায় কৃষির নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর এ সোনালি প্রাপ্তি শুধু ফসলের নয়- ডিমলার কৃষি অর্থনীতিতেও যোগ করেছে নতুন আশার আলো।