ফারুক হোসেন ডন, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:।
বরেন্দ্র অঞ্চল নাচোল, পুরানো জনপদ গোমস্তাপুর ও সীমান্তবর্তী ভোলাহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত ৪৪,চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ সংসদীয় আসন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই অবহেলিত জনপদের ভাগ্যোন্নয়নে এবং তৃণমূলের পালস বুঝে ধানের শীষের চূড়ান্ত মনোনয়নে পরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন সাবেক ছাত্রনেতা ইঞ্জিনিয়ার মুঃ ইমদাদুল হক মাসুদ।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তিনি।
উল্লেখ্য যে, এই আসনে প্রাথমিকভাবে আলহাজ্ব আমিনুল ইসলামকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ, বর্তমান প্রার্থীর সাথে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা নেই বললেই চলে। এই অবস্থায় আসনটি ধরে রাখা বা জয়ী হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজপথের সৈনিকেরা।
নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অকুতোভয় ছাত্রনেতা ও বুয়েটের আহসানউল্লাহ হলের সাবেক ভিপি ইঞ্জিনিয়ার মুঃ ইমদাদুল হক মাসুদ মনে করেন, দল শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের সেন্টিমেন্টকে মূল্যায়ন করবে।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন: আমি দলের দুঃসময়ের কর্মী। বর্তমানে যাকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাঁর সাথে তৃণমূলের কোনো যোগাযোগ নেই। সাধারণ মানুষ এবং কর্মীরা পরিবর্তন চায়। আমি বিশ্বাস করি, দেশনায়ক ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই আসনের বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করে চূড়ান্ত মনোনয়নে অবশ্যই পরিবর্তন আনবেন। ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতেই আমার এই মনোনয়ন ফরম উত্তোলন।
কৃষিভিত্তিক এই জনপদকে আধুনিক স্মার্ট জনপদে রূপান্তর করার স্বপ্ন দেখছেন ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ। তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে এই এলাকার রাজনীতির সনাতন ধারা আমূল পরিবর্তন করব। আমি আপনাদের শাসক বা জনপ্রতিনিধি হতে আসিনি; আমি হতে চাই এই জনপদের প্রতিটি মানুষের ‘জনতার গোলাম’। আমি বিশ্বাস করি, ক্ষমতা মানে দাপট নয়, ক্ষমতা মানে মানুষের সেবা করার অধিকার।
মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় উপস্থিত থাকা নেতাকর্মীরা জানান, ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ একজন উচ্চশিক্ষিত ও ত্যাগী নেতা। তাঁর মতো স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষ প্রার্থী হলে সাধারণ মানুষ দলমত নির্বিশেষে ধানের শীষে ভোট দেবে। অন্যথায়, প্রার্থীর সাথে জনগণের দূরত্ব থাকলে আসনটি হারানো বা জয়লাভ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।
এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় হাই কমান্ড তৃণমূলের এই জোরালো দাবি এবং মাঠের রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কী পরিবর্তন আনে।

Reporter Name 



















