ফিরোজ আলম, নিজস্ব প্রতিবেদক:
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশের মতো রাজশাহী–৩ (পবা–মোহনপুর) আসনেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
রোববার (২৫ জানুয়ারী) সকাল থেকে মোহনপুর উপজেলার রায়ঘাটি ইউনিয়নের কামারপাড়া বাজার এলাকা থেকে তিনি নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তার সঙ্গে অংশ নেন।
গণসংযোগকালে শফিকুল হক মিলন বলেন, নির্বাচিত হলে পবা–মোহনপুর উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি দাবি করেন, মোহনপুরের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ধর্মীয় বিষয়কে নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত করে মানুষের অনুভূতি নিয়ে রাজনীতি করছে। “তারা নির্বাচন নিয়ে খেলা করেই ক্ষান্ত হয়নি, মানুষের কাছে বেহেশতের টিকিট বিক্রি করছে। মানুষের ঈমান-আমান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা থেকে তাদের বিরত থাকা উচিত,” বলেন তিনি। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মিথ্যাচার ও প্ররোচনার ফাঁদে পড়ে ঈমান হারা হবেন না।”
মিলন আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখা হবে উল্লেখ করে তিনি নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি প্রাথমিক স্তর থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার কথাও বলেন।
তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পতিত সরকার জনগণের ওপর অন্যায় অত্যাচার করেছে। বিএনপির বহু নেতাকর্মী হত্যা, গুম ও মামলার শিকার হয়েছেন। দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে রাষ্ট্রকে অকার্যকর করা হয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিদেশে অবস্থান করে এখনো বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন। এ সময় তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।
স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে মিলন বলেন, মোহনপুরের রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, পুরোহিত ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের জন্য সম্মানজনক ভাতার ব্যবস্থা করার কথাও উল্লেখ করেন। বেকারত্ব দূর করতে শিল্পকারখানা স্থাপন এবং কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
গণসংযোগ চলাকালে বিভিন্ন ওয়ার্ডে তাকে দেখতে ও বক্তব্য শুনতে নারী-পুরুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অনেক প্রবীণ ব্যক্তি তাকে দোয়া করেন এবং সমর্থনের আশ্বাস দেন। এ সময় স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, তাদের এলাকার রাস্তাগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। তারা বলেন, বিএনপি আমলে নির্মিত অনেক রাস্তা পরবর্তীতে সংস্কারের নামে অবহেলা ও দুর্নীতির শিকার হয়েছে, ফলে তারা দুর্ভোগে আছেন। মিলন তাদের কথা শুনে নির্বাচিত হলে দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।
এদিকে বিকেলে মোহনপুর উপজেলার ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নেও গণসংযোগ করেন তিনি। সেখানেও নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের ঢল নামে। নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশুরা রাস্তায় নেমে তাকে স্বাগত জানান। মিলন সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের সমস্যা ও অভিযোগ শোনেন। তিনি বলেন, ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের সব সমস্যার সমাধানে আগামী দিনে কাজ করবেন।
গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শামিমুল ইসলাম মুন, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব আর রশিদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাজিম উদ্দিন সরকার,
২নং ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী মীর, কেশরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন আলো,
সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক খুশবর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম রাসেল, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানি সুমনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

Reporter Name 



















