ফিরোজ আলম,নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা। প্রতিদিন এ বাজারে হাজার হাজার মানুষের ক্রয়-বিক্রয় ও চলাচল থাকে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজারে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে দুই থেকে তিনটি গরু জবাই করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব গরু জবাইয়ের মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মা-গরু জবাই করা হয়ে থাকে।
শনিবার (১০শে জানুয়ারি) ভোরে বাজারের জবাইখানায় কসাইরা একটি মা-গরু জবাই করেন। জবাইয়ের পর জানা যায়, গরুটি গর্ভবতী ছিল এবং তার পেট থেকে একটি গর্ভস্থ বাছুর পাওয়া যায়। এরপর কসাইরা গরুর মাংস প্রস্তুত করে বাজারের বিভিন্ন হোটেল ও সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করেন।
পরে বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাজারে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ পশু জবাইখানার পুকুরের পাশে একটি মৃত গরুর বাছুর পড়ে থাকতে দেখেন। সেই গরুর বাছরের একটি পা কেটে নেয়া হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এতে জনসাধারণের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। তৎক্ষণাৎ ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষের ফেসবুক প্রোফাইল এবং পেজে ছড়িয়ে পড়ে ও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে।
এ ঘটনায় সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে-তাহলে কি প্রতিদিনই বাজারে এ ধরনের অসুস্থ ও গর্ভবতী গরুর মাংস বিক্রি ও ভক্ষণ করা হচ্ছে? স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি কেশরহাট বাজারে পশু জবাই ও মাংস বিক্রির কার্যক্রম সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জবাইকৃত পশুর মলমূত্র নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা ও সংরক্ষণের বিষয়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উপজেলা সেনেটারি ইন্সপেক্টর আসাদুল ইসলাম জানান, আমি খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে থানা পুলিশদের সাথে কথা বলেছি। এখানকার কসাইদের আগেও বলেছি, পরিক্ষা করে গরু জবাই করতে। কিন্তু কসাইরা সকাল হওয়ার আগে নিয়ম না গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করে, কসাইদের বিরুদ্বে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোহনপুর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দীন জানান, ঘটনাস্থল থেকে গাভি গরুর মেরে ফেলা বাচ্চাটি উদ্ধার করে উপজেলা সুরতহাল রিপোর্টের জন্য উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ খন্দকার সাগর আহম্মেদ জানান, অফিস থেকে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। রোগাক্রান্ত বা গর্ভবতী গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোহনপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কেশরহাট পৌর প্রশাসক জোবায়দা সুলতানা তিনি জানান,
বিষয়টি অলরেডি জেনেছি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্য নেয়া হয়েছে। যে বা যারা এই অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Reporter Name 


















