শিরোনাম
রাণীনগরে আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার-বরেন্দ্র নিউজ ভোলাহাটে ওয়ালটনের শোরুম উদ্বোধন করলেন চিত্রনায়ক আমিন খান-বরেন্দ্র নিউজ ভোলাহাটে সরকারি সেলাই মেশিন নিজঘরে রেখে দোষ চাপাচ্ছেন অন্যের ঘাড়ে-বরেন্দ্র নিউজ ভোলাহাটে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে দ্বি-মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত-বরেন্দ্র নিউজ গোমস্তাপুরে ২৯তম জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহের উদ্বোধন-বরেন্দ্র নিউজ ভোলাহাটে তালা প্রতীকের ভোট প্রার্থনা বরেন্দ্র নিউজ ভোলাহাটে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আনোয়ারের চিংড়ি প্রতীকের ভোট প্রার্থনা-বরেন্দ্র নিউজ ভোলাহাটে নবাগত ইউএনও’র মতবিনিময় সভা-বরেন্দ্র নিউজ ভোলাহাটে কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ-বরেন্দ্র নিউজ ভোলাহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু-বরেন্দ্র নিউজ রুপালী ব্যাংক পিএলসি ভোলাহাট শাখার নতুন ভবনে ব্যাংকিং কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন-বরেন্দ্র নিউজ
নতুন হিসাব কষছে বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যু

নতুন হিসাব কষছে বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যু

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিন আবেদন সরাসরি নাকচ হয়ে যাওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুতে নতুন হিসাব-নিকাশ কষছে বিএনপি। গ্রেফতারের ১৭ মাস পেরিয়ে গেলেও আইনি প্রক্রিয়ায়ই নেত্রীর মুক্তি হতে পারে, এমন আশা এত দিন দলের অভ্যন্তরে কিছুটা হলেও ছিল। কিন্তু সর্বশেষ এই রায়ের পর সেই ভরসা বলতে গেলে পুরোটাই উবে গেছে। কর্মীদের মধ্যে এখন আরো বেশি ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নীতি নির্ধারণীয় পর্যায়ে থাকা সিনিয়র নেতারাও রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে চাপে পড়ে গেছেন। তারাও বেগম জিয়ার মুক্তি ইস্যু নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। গতকাল রাতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে সিনিয়র আইনজীবীদের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন নেতারা। সেখানে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও স্কাইপিতে যুক্ত ছিলেন। 
গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর বিএনপিতে তিন ধরনের মত ছিল। এক. কারাগারে পাঠানো হলে মাসখানেকের মধ্যেই জামিনে বেরিয়ে আসবেন খালেদা জিয়া। দুই. বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে ছেড়ে দেয়ার জন্য নয়। এবং তিন. আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি সম্ভব নয়, রাজপথেই এর ফায়সালা হতে হবে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিন আবেদন সরাসরি নাকচ হয়ে যাওয়ার পর এই তিন ধরনের মতো একমতে রূপ নিয়েছে বলে গতকাল সিনিয়র এক নেতা জানিয়েছেন। ওই নেতার মতে, ‘রাজপথ ছাড়া খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনার আর কোনো পথ খোলা নেই।’
বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, আদালতের সর্বশেষ এই অবস্থানের পর রাজনৈতিক দূরত্ব আরো তীব্র হলো। বেগম জিয়ার মুক্তি নিয়ে সরকারের কট্টর অবস্থানের প্রকাশ ঘটল। সরকারের প্রধানের ইচ্ছা ছাড়া বেগম জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়, সেটিও স্পষ্ট হয়েছে। রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের যেটুকু অবশিষ্ট ছিল তাও শেষ হয়ে যাওয়ার পথ ধরেছে। 
৭৫ বছর বয়স্ক সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার স্বাস্থ্যের অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়ার জিবে আলসার হয়েছে। এক সাপ্তাহে তার চার কেজি ওজন কমেছে। উনি শুঁকিয়ে গেছেন। কিছুই খেতে পারছেন না। হুইল চেয়ার ছাড়া মুভ করতে পারছেন না। বিছানা থেকে একা নিজে উঠতে পারেন না। হুইল চেয়ারে বসিয়ে তাকে টয়লেটে, ওয়াসরুমে বা খাবার টেবিলে নিতে হয়। এভাবে বেগম জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মির্জা ফখরুল। 
আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি অসম্ভব মনে করে, অসুস্থতা বিবেচনায় এনে প্যারোলে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাওয়া হবে কি না তা নিয়ে নতুন করে আবারো বিএনপির ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। মাস চার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি বক্তব্যের সূত্র ধরে এই আলোচনা বেশ চাউর হয়েছিল। বিএনপির নেতারা তখন বলেছেন, বেগম জিয়া প্যারোলে মুক্তি পেতে চান না। বিএনপির সিনিয়র একা নেতা বলেছেন, দল, পরিবার ও সর্বোপরি বেগম খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণের বিষয়টি। বিএনপির মধ্য সারির নেতাদের একটি অংশ অবশ্য শুরু থেকেই যেকোনো প্রক্রিয়ায়ই হোক বেগম জিয়াকে কারমুক্ত দেখতে চান। 
বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা মনে করছেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন হাইকোর্টে সরাসরি খারিজ হয়ে যাওয়ায় তার মুক্তির বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নয়া দিগন্তের সাথে আলাপকালে তারা বলেছেন, এখন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালাস চেয়ে যে আপিল আবেদন শুনানির অপেক্ষায় আছে, সেই আবেদনটি হাইকোর্টের অন্য কোনো বেঞ্চে উপস্থাপন করে জামিন আবেদন করা যেতে পারে। আর দ্বিতীয় প্রক্রিয়া হলো হাইকোর্টের জামিন আবেদন খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়া। তারা বলেছেন, যেহেতু খালেদা জিয়ার কোনো আইনজীবীকে তার সাথে সাক্ষাৎ করতে দেয়া হচ্ছে না, সেহেতু এ বিষয়ে সিনিয়র আইনজীবীরা সম্মিলিতভাবে আলোচনায় বসে সিদ্ধান্ত নেবেন। 
খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় এখন আপিল বিভাগে যেতে হবে। তিনি বলেন, আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাব। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে। এ কারণে সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হবে না। সাত বছরের সাজায় তার জামিন নামঞ্জুর করা অত্যন্ত দুঃখজনক। 
খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেছেন, খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ আলোচনা করে ঠিক করা হবে। 
খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী ও বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে যে শর্তগুলো আদালত বিবেচনা করেন, তার প্রত্যেকটাই শর্তই বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। যেমন স্বল্প সাজা, শারীরিকভাবে অসুস্থ, বয়স বিবেচনা ও তার সামাজিক অবস্থান। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া জামিন পাওয়ার হকদার ছিলেন। তার পরেও তাকে জামিন না দিয়ে উনাকে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, যা অবিচারেরই নামান্তর। 
এ মামলায় জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কি হতে পারে? এ প্রশ্নের জবাবে কায়সার কামাল বলেন, যেহেতু বেগম খালেদা জিয়ার কোনো আইনজীবীকে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে দেয়া হচ্ছে না, সেহেতু সিনিয়র আইনজীবীরা আলোচনায় বসে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন। সেই সাথে আমরা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করে তার পরামর্শ নেয়ার চেষ্টা করব।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




<figure class=”wp-block-image size-large”><img src=”http://borendronews.com/wp-content/uploads/2020/07/83801531_943884642673476_894154174608965632_n-1-1024×512.jpg” alt=”” class=”wp-image-17497″/></figure>

© All rights reserved © 2019 borendronews.com
Design BY LATEST IT